বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
২০৬

অগ্রসরতার আরেক নাম শেখ হাসিনা

ড. মোহাম্মদ হাসান খান

প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

এ যাবতকালের বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সমুদ্র জয় করেছি, ছিটমহল সমস্যার সমধান হয়েছে, সকল বির্তকের অবসান ঘটিয়ে আমাদের নিজের খরচে পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, উল্লেখযোগ্য হারে ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে এখন যানজট নিয়ন্ত্রণে। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে খুব সহজে পণ্য নিয়ে যাতায়াত করা যায়। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারতা পেয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকা, চার লেন রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। পোশাক ও ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশে তৈরি ঔষধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং বিশ্বের ৩ নম্বর ঔষধ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমাদের দেশের তৈরি পোশাক বিদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

 

বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। বিনিয়োগের সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ এখন বাংলাদেশে। এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাব নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এ সফলতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের। কৃষিতে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে সফল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। মৌসুমী ফসল, ফল ও শাকসব্জি এখন সারা বছর পাওয়া যায়। কৃষকদের প্রশিক্ষণের ফলে এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন আর বাংলার মানুষ না খেয়ে মরে না। এমন কি চাল এবং মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ। বাংলাদেশের আম এখন ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। কৃষকদের  জন্য সহজ কিস্তিতে কৃষিঋণ দেয়া হচ্ছে। ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বাংলাদেশের চা বিশ্বে জনপ্রিয় এবং উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ পর্যায়ে স্থান করে নিয়েছে। 

 

মহাকাশ জয় করেছি আমরা। ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। ৫,০০০ এর বেশি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার ৮,২০০ ই-পোস্ট অফিস থেকে জনগণ ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্থান করে নিয়েছে। সব শ্রেণির মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সহজলভ্য এবং ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বিমান বন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত। দারিদ্র বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প এবং ভিক্ষুকদের ঘর নির্মাণ করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। দরিদ্র ছেলেমেয়েরা যেন স্কুলে যায় তার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন শতভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে ৩১,১৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।

 

সেই সাথে ২৬,১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছায় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর এক যুগান্তকারী ঘটনা। সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে এদেশ সফরে আশার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সৌদি আরবের বাদশাহ এবং যুবরাজ বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার প্রসংশা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন এই উন্নয়ন ও  অগ্রযাত্রা যেন এই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই অব্যাহত থাকে। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারাবাহিকতা কামনা করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই সব ধর্মের মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে বাস করছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় আছে।

 

আমাদের সরকারের পরবর্তী মিশন দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা দেশকে ক্ষুধামুক্ত করেছি। বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন। মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করে বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্ব ও দক্ষতার সাথে  তিঁনি দেশ পরিচালনা করছেন। তাঁর হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন বাস্তবতার শেষ পর্যায়ে। 

 

একাদশ সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বাংলাদেশের মানুষের ভোটে এবং ভালবাসায় আবার টানা তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে দেশ হবে আরো অগ্রসর ও আরো উন্নত। আজকের বাংলাদেশ সফলতা ও সমৃিদ্ধর বাংলাদেশ যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। অন্যদিকে অকুতোভয় গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের প্রভাবশালী নারী নেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন এবং সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। 

 

তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দক্ষতায় পঁচাত্তরের পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এর আগে শেখ হাসিনা স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ২০০৮ সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ আবারও সরকার পরিচালনায় আসে। ক্ষমতায় থেকেও তিনি ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।

 

জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বাংলার আপামর জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা আছে। মহান আল্লাহ যখন কাউকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, তাঁকে মারার সাধ্য কার আছে! শেখ হাসিনা নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণকেও দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে। 
 

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর