মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
৭৫

আমরা `শুধুই` বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০১৯  

ক্রিকেটে আপনি কোন দলের সমর্থন করেন? চোখ বুজে বলে দেবো বাংলাদেশ। জানি, আপনিও তাই। তবে এ নিয়ে লিখছি কেন? কারণটা লিখতে লিখতেই বলি। 

ক্রিকেট নিয়ে পাগলামী আমাদের ঐতিহ্যই বলতে পারেন। সেই রকিবুল হাসানের "জয় বাংলা" লেখা ব্যাট থেকে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা জুয়েল, ক্রিকেট মিশে আছে আমাদের ইতিহাস আর মহান অর্জনের সঙ্গে। আমাদের বাবা-চাচারা রেডিওতে ক্রিকেট শুনে শুনে বড় হয়েছেন। আমাদের শৈশবে অবশ্য টিভির চারকোনা বাক্সে ঢুকে গেছে ২২ গজের খেলা। 

আজকের ক্রিকেট আর দুই যুগ আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতটা কি তবে একই রকম ছিল? এ প্রশ্নটা নিয়ে যাবে অন্য অঙ্গনে। আমার ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে মনে আছে। তার আগে আবছা মনে পড়ে ৯২ এর ফাইনাল। তখনকার দিনগুলো আজকের থেকে অনেকটা আলাদা। আমাদের আগের প্রজন্ম দেশের বাইরে কোন না কোন দলকে সমর্থন করতেন কিংবা করতে বাধ্য হতেন। কারণ, বাংলাদেশ তখনও ওডিআইয়ে সাফল্য বা টেস্ট স্ট্যাটাস পায় নি। আর দল সমর্থন করাটা অনেকটা পরিবার থেকেও আসে, তাই অধিকাংশ পরিবারে দেখা মিলত এশিয়ার দুই পরাশক্তির সমর্থকদের। 

অন্য দলের সমর্থকও পাওয়া যেতো, তবে শতাংশের হিসেবে তা ধরার মতোই নয়। এই ছিল যখন অবস্থা, তখন "কোন্ দলের সমর্থন করেন? "এ প্রশ্ন করলেই ভিনদেশের নাম উত্তর হিসেবে আসতো। বাসায় বাসায় টানানো হতো ভিনদেশী খেলোয়াড়দের পোস্টার। আমাদের জাতীয় দলকে সহ্য করতে হতো অন্য দেশের "এ" দলের সাথে খেলার মতো অভিজ্ঞতা। 

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর চিত্র বদল হলো অনেকটাই। তবে, তখন প্রশ্নটা করা হতো, "বাংলাদেশের পর কোন দলের সমর্থন করেন?" আগের সমর্থনের ঘানি তখনও আমরা টেনে বেড়িয়েছি। কারণটা, ওডিআই কিংবা বিশ্বকাপ অঙ্গনে বাংলাদেশ তখনও ধারাবাহিক সাফল্য পেতে শুরু করে নি। আমাদের বিজয়ের গায়ে ট্যাগ লাগানো হতো "অঘটন", আর ''সম্মানজনক পরাজয়'' ছিল আমাদের নিয়মিত সাফল্য। 

শুরু-শুরুতে কেনিয়া আর জিম্বাবুয়ের সাথে এত ম্যাচ খেলতো বাংলাদেশ, যে ওদের খেলোয়াড়দের নাম আমাদের সবার মুখস্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে বাঘের ডেরায় এসেছে পরিবর্তন। আত্ববিশ্বাসের নতুন নতুন স্তম্ভ তৈরি হয়েছে দিনের পর দিন। কখনও মেহরাব হোসেন অপির হাফ সেঞ্চুরি, মোহাম্মদ রফিকের ঝড়ো ব্যাটিং, হাবিবুল বাশারের অর্ধশতকের ফুলঝুড়ি, আবার কখনও অভিষেক টেষ্টে বুলবুলের মহাকাব্যিক শতক। আস্তে আস্তে শুধু নিজের দেশ হিসেবেই নয়, "যোগ্য দল" হিসেবেও বাংলাদেশকে সমর্থনের নতুন নতুন সব উৎস পেতে থাকে নব প্রজন্ম। মোহাম্মদ আশরাফুল, আব্দুর রাজ্জাকের মতো ক্রিকেটাররা লড়াকু বাংলাদেশ চেনান বিশ্বকে। 

গল্পের শেষটাতো এখনো শুরুই করিনি। হাতের পাঁচ আঙ্গুলের মতো পাঁচ স্তম্ভ বদলে দেয় সবকিছু। মাশরাফি-তামিম-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দেখতে থাকে বিশ্ব। যে বাংলাদেশ জিততে শিখে গেছে। জয়ের পর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মাঠ থেকে বের হতে শিখে গেছে। এ এক পরিণত বাংলাদেশ দল। সেই সাথে সমর্থকরাও সম্পূর্ণ মন মিশিয়েছে বাঘের ডেরায়। 

আসছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পা রাখবে ফেবারিট হিসেবে। অথচ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও একটা টিভি অ্যাডে দেখেছিলাম 'মিনোজ' শব্দটা। চোখ বুজে বলতে পারি, এবারের বিশ্বকাপে শুধু সমর্থনই নয়, অনেক ইতিবাচক প্রশ্নের উত্তরও হবে ‘বাংলাদেশ’। আমাদের সমর্থনের এতটুকু ভাগও আমরা অন্য দেশকে দিতে রাজি নই। আমরা হারলেও বাংলাদেশ, জিতলেও বাংলাদেশ। আমরা 'শুধুই' বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। আহা! প্রাণের বাংলাদেশ।
লেখক: মনদীপ ঘরাই, সাবেক ক্রীড়া সাংবাদিক ও বর্তমানে সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব।
ইমেইল: [email protected]

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা