মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
১২৫

দিনে ২ বার পানি ওঠে মা ও শিশু হাসপাতালে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৯  

বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে চারদিন ধরে দিনে দুই বার আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় পানি উঠছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স, রোগী-স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের নিচতলায় রয়েছে শিশু বিকাশ কেন্দ্র, জেনারেল ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয়। জেনারেল ওয়ার্ডে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের ভর্তি করা হয়। এসব রোগী প্রান্তিক এলাকা থেকে আসে। কিন্তু পানির কারণে ওই ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন তারা।

জেনারেল ওয়ার্ডে ৭১টি শয্যা রয়েছে। বৃষ্টির শুরুর পর ওই ওয়ার্ডের রোগীদের ওপরের তলায় স্থানান্তর করা হয়। তবে নতুন করে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক থেকেও হাসপাতাল ভবনটি নিচু। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের পানি ঢুকে। পানি না ঢুকার জন্য হাসপাতাল ভবনের চারপাশে দেয়াল তৈরি করা হলেও কাজে আসেনি। জোয়ারের সময় মহেশখাল হয়ে ওই এলাকায় পানি আসে। এতে জলমগ্ন হয় হাসপাতালটি।

মিরসরাইয়ের বাসিন্দা সেলিনা বেগম তার ২ বছর বয়সী শিশু আসমাকে নিয়ে হাসপাতাল এসেছেন গত শুক্রবার। শনিবার থেকে হাসপাতালটিতে পানি উঠছে।

সেলিনা বেগম বলেন, জেনারেল ওয়ার্ডে ছিলাম, সেখানে পানি উঠে যায়। হাঁটাচলা করতে পারতাম না। পানি বেশি হয়ে যাওয়ায় উপরের স্থানান্তর করা হয়েছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আলমগীর বলেন, ‘প্রতিদিন দুই বার করে পানি ঢুকে, দুপুর এবং ভোরের দিকে জোয়ার আসে। এ ছাড়া বৃষ্টি বেশি হলে পানি ঢুকে। পানি নেমে গেলে পুরো ফ্লোর মুছতে হয়। আয়া-ওয়ার্ডবয়রা প্রতিদিন এ কাজ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে ওই হাসপাতালে পানি উঠতো না। ২০১০ সাল থেকে পানি ওঠা শুরু হয়। তখন থেকে বর্ষা এলেই দুর্ভোগে পড়েন চিকিৎসক, নার্স, রোগী-স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক বলেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় নিচতলার সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু নিয়মিত এ এলাকায় পানি উঠে, তাই বর্ষা আসলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করি। পানি উঠার কারণে চলাফেরায় কিছুটা সমস্যা হলেও হাসপাতালের সেবা চালু রয়েছে।’

নতুন ভবনে সেবা চালু কবে?

সেবার পরিধি বাড়াতে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন ভবন তৈরি করছে। ইতোমধ্যে ভবনটির কাজ প্রায় সম্পন্ন। তবে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে, নতুন ভবনের কয়েকটি ফ্লোরের কাজ শেষ করে সেখানে সেবা চালু করতে।

হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক বলেন, নতুন ভবনে সেবা চালু হলে জলাবদ্ধতা সমস্যা আর থাকবে না।

‘কিন্তু সেটির কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে চেষ্টা চলছে কয়েকটি ফ্লোরের কাজ শেষ করার।’

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা