সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
পাল্টাপাল্টি হামলায় ভারতের ৯, পাকিস্তানে ৭ জন নিহত আর কিপিং করবেন না মুশফিক? বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিদর্শনে নিউইয়র্কের পাঁচ সিনেটর আজ ঢাকায় আসছেন রাষ্ট্রপতি জাপান ও সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন আজ হাইকোর্টে ৯ বিচারপতি নিয়োগ দুই সেনা নিহতের পর পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ভারত ‘বাংলাদেশের নির্মিত ফোন সারা বিশ্বে ব্যবহার হবে’ বিকেলে যুবলীগের সঙ্গে বসছেন শেখ হাসিনা
২১

বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রস্তাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০১৯  

৮.৩৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের শাহ আমানত বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি হয়ে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী অংশ চার লেনে উন্নীত হলে যানজট নিরসন হবে এবং শিশুবান্ধব পর্যটনের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া স্লটার হাউজ নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশগত উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা করা যাবে। চসিক, আইএমইডি ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপ অনুযায়ী এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে সড়কের দৈর্ঘ্য- সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে ড্রাইডক লিমিটেড পর্যন্ত ৩.৭১ কিলোমিটার, বোট ক্লাব থেকে বাটারফ্লাই পার্ক পর্যন্ত ৩.২৮ কিলোমিটার। প্রায় ৭ কিলোমিটার চার লেন করবে চসিক। আর ড্রাই ডক লিমিটেড থেকে বোট ক্লাব পর্যন্ত ১.৩৯ কিলোমিটার অংশ (নির্মাণাধীন কনটেইনার টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত) ছয় লেন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি প্রয়োজন হবে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ২১৮ বর্গফুট। রেললাইন স্থানান্তরের জন্য জমির প্রয়োজন হবে ২০ হাজার বর্গফুট। মোট জমি প্রয়োজন হবে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ২১৮ বর্গফুট বা ৩২০ কাঠা।

‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন ও স্লটার হাউজ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদকালে প্রকল্পের অধীনে রয়েছে- ৬৮৯ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন, ৬০০ মিটার ওভারপাস, ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ, ২২টি কালভার্ট নির্মাণ, ১২টি ব্রিজ নির্মাণ, ৭টি স্লটার হাউজ, ৮টি রাউন্ড এবাউট নির্মাণ ও শেখ রাসেল পার্কের বিনোদন সুবিধার উন্নয়ন।

প্রকল্পের স্ট্রাকচার বাবদ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা, মোট প্রকল্পে ব্যয়ের ১ শতাংশ করে ফিজিক্যাল কনটিনজেন্সি ও প্রাইস কনটিনজেন্সি ধরা হয়েছে। প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় হবে ৫ কোটি টাকা। প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণে ১ম বছর ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা, যা নির্বাহ করা হবে করপোরেশনের রাজস্ব বাজেট থেকে।

জানা গেছে, বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের জায়গা নিয়ে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিএসসি গ্রেইন কনভেইয়ার, ফুড মিনিস্ট্রি অব চিটাগাং (সেইলো), টিএসপি কমপ্লেক্স, ইলিয়াস ব্রাদার্স, ওয়েল রিফাইনারি (ভোট), আবুল খায়ের গ্রুপ, যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, সাউথ ইস্টার্ন ট্যাংক টার্মিনাল, স্টান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি, এমজেএল বাংলাদেশ, ড্রাই ডক, বাটারফ্লাই পার্ককে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার শাহ আমানত বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে কেউ বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে নগরে প্রবেশ করার সময় একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে দুটি গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারে না। চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে। সেই পরিকল্পনায় বিমানবন্দর সড়কটি চার লেইনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল করা এবং বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রী সাধারণের জন্যও এই সড়ক চার লেইনে উন্নীত করা দরকার।

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কের পাশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা আছে। তারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। আমাদের পরিকল্পনা তাদের অবহিত করেছি। এর আগে এ বিষয়টা নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনিও এ ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। এরপর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করি। প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারে ২৪ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সম্মতি দিয়েছেন, কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। কিছু পুরানো প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। তাই কিছুটা কনসিডার করার ব্যাপারে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর