মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
১৩৮

‘সব থেকে বড় সম্ভাবনার নাম শেখ হাসিনা’

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯  

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ছিল শুক্রবার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের এই দিনে দেশে ফেরেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৮১ সালের ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঐতিহাসিক হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়।

এরপর তিনি স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে দেশে ফেরেন। ওই দিন শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার তৎকালীন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য লাখো জনতার ঢল নেমেছিল। এসময় সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী জনতার স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বিমানবন্দর এলাকা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নানান কারণে তাৎপর্য বহন করে। প্রথমত, বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র সাম্য নিশ্চিহ্ন করার জন্য ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয়ত, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কুশীলব চক্র তারা বুঝতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কোনো সহযোদ্ধা যদি বেঁচে থাকে তাহলে হয়তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে টেনে নিয়ে যাবে। এজন্য তারা  সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং পরবর্তীকালে শেখ হাসিনাকে বার বার হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে। তারা জাতির পিতার সপরিবারে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হননি, জাতীয় চার নেতাকে জেলে হত্যা করে। ৭৫ পরবর্তীতে অসংখ্য মুক্তিযোদ্বাকে তারা হত্যা করেছিলো।


 
৭৫ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ পাঁচটি বছর যতদিন জিয়া বেঁচে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছেন, জেল-জুলুম খুন-গুম করেছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়া তো দূরে থাক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যেন দেশে আসতে না পারে সেজন্য তারা তৎপর ছিল। তৎকালীন সামরিক সরকার চায়নি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, রাজনীতি করুক। এমন সময় তিনি দেশে আসেন যখন আওয়ামী লীগের বিভক্তি অনিবার্য ছিল। সেসময় দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে দলের সভানেত্রীর দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়। তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

দেশে ফেরার পর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আমরা দেখতে পেয়েছি, তার পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ ও চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা অত্যন্ত ধীর স্থিরভাবে, প্রত্যয়ের সঙ্গে পা ফেলেছেন, তার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। এরপর দলকে ঐক্যবদ্ধ করে দীর্ঘ একুশ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনেন। জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার কাজ শুরু করলেন। এক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন।

আমি যেটা মনে করি,শেখ হাসিনা যদি দেশে না আসতো আওয়ামী লীগের ঐক্য ধরে রাখার সম্ভাবনা ছিল না। আমরা যারা তৃণমূলের কর্মী ছিলাম, যখন জানতে পারলাম জননেত্রী শেখ হাসিনা সভানেত্রী দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তখন আবেগে টইটুম্বুর হয়ে গিয়েছিলাম। সত্যি কথা বলতে কি সেদিন আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। হৃদয়ের সমস্ত খুশির বাঁধভাঙ্গা জোয়ার আছড়ে পড়েছিলো আমাদের হৃদয় কার্নিশে। আমাদের অত্যন্ত সৌভাগ্য যে, তিনি আমাদের আবেগকে ধারণ করতে পেরেছিলেন। আজ অবধি তার নেতৃত্ব আমাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছে।

তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষান্ত হননি,পাশাপাশি দেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে দাঁড় করিয়েছেন। যে ট্র্যাক থেকে বাংলাদেশ আজ শুধুই সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনাকে একজন ভিশনারি নেতা হিসেবে বিবেচনা করছে। সে সঙ্গে তাকে রোল মডেল হিসেবে দেখছে। আমরা দেখতে পাই সেদিন শেখ হাসিনা যদি দেশে না আসতেন তাহলে বাংলাদেশের আজ কি হতো?

সেটা আজকের দিনে ভাববার বিষয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। ৪৭ সালে যখন পাকিস্তান স্বাধীন হয়। তারপর থেকে পাকিস্তানের নির্বাচন হয়। কিন্তু সেটা দেখা যায় নির্বাচনের নামে প্রহসন। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই ঠিক করে দেয় ক্ষমতায় কে অধিষ্ঠিত হবে। তারা নির্বাচনের নামে ক্ষমতায় আসে। আমার মনে হয় বাংলাদেশও সে চক্রের মধ্যে ঘুরপাক খেত। পাকিস্তানের মতো নাম মাত্র গণতন্ত্রের ন্যায় ছদ্মাবরণে দেখতাম। কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পেতাম না।


 
সেদিনের বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হবে। চট্টগ্রামে তীর্থের কাকের মতো যারা আমরা রাজনীতি করেছিলাম তারা নেত্রীর অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা তখন পত্র-পত্রিকায় দেখেছি সেদিন ঢাকার রাজপথ মানুষের দখলে ছিল। বৈরী আবহাওয়া,দুর্যোগ উপেক্ষা করে মানুষ ঢাকার রাজপথে নেমে পরেছিল শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে।

সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টিকে পায়ে ঠেলে মানুষের ঐকতানে ঢাকার রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছিল। এতো মানুষের উপস্থিতি হবে সামরিক জান্তা সরকার তা আঁচ করতে পারেনি। আমার স্মৃতি যদি আমার সঙ্গে প্রতারণা না করে তাহলে বলতে পারি, বিমানবন্দর থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট সময় লাগার কথা। অথচ জননেত্রী শেখ হাসিনা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টার ওপরে সময় লেগেছিল। তার অপেক্ষায় পথে পথে সেদিন লাখ লাখ মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। শেখ হাসিনা বিমান থেকে দেশের মাটিতে নেমেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি। তার চোখের জলে বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন। তার কান্নায় সেদিন প্রকৃতিও যেন কেঁদে উঠেছিল। সেদিন বৈরী আবহাওয়া যেমন শেখ হাসিনা আগমন ঠেকাতে পারেনি,আজ অবধিও তাকে কেউ দমাতে পারেনি, থামাতে পারেনি।

আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, পৃথিবীতে তিনি একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যার পথে পথে কাঁটা বিছানো ছিল। যার ওপর ২১ বার হামলা হয়েছিল। যা কোন পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রনায়কের ক্ষেত্রে ঘটেনি। কোনো হামলা মামলা তাকে এক মুহূর্তের জন্য দমাতে পারেনি। হয়তো তিনি থমকে দাঁড়িয়েছেন কিন্তু তার পথচলা রুদ্ধ করতে পারেনি কেউ।

শেখ হাসিনাকে তার বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি সেদিন। যেখানে বঙ্গবন্ধুর লাশ পরেছিল। শিশু রাসেলের পদচারণা ছিল, সেই স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে সেদিন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্য একটি বারের জন্য শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সামরিক জান্তার এমন নির্মমতা পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্বজন হারানোর শোক আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। এমন অমানবিকতার উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই পৃথিবীর ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না। খুনি জিয়া সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সেদিন।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে তারা আবার দেশে মানবিকতার কথা বলেছে আবার কিছু লোক তাদের কথায় সহমত পোষণ করে। জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার না করার জন্য পার্লামেন্টে খুনি জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। যাতে খুনিরা বিচার বহির্ভূত থাকে। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। সারা পৃথিবীর সামনে বাংলাদেশকে খুনিদের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল তার পৃষ্ঠপোষকতায় এদের ‘নাজাত দিবস’ পালন করা হতো। ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যখন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করতো পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যেত। জেল-জুলুম দিয়ে অত্যাচার করতো।অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আর দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে তিন একজন ভিশনারি লিডারশিপে রূপ নিয়েছেন। তাকে দেখেই আজ বিশ্ব বলছে শেখ হাসিনা একজন বিস্ময়কর নেতা। তার নেতৃত্বের আলোক দ্যুতি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে দিন দিন উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারে পৌঁছে যাচ্ছে।  

লেখক-আমিনুল ইসলাম আমিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক।

 

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা