সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

চট্টলার বার্তা
সর্বশেষ:
পাল্টাপাল্টি হামলায় ভারতের ৯, পাকিস্তানে ৭ জন নিহত আর কিপিং করবেন না মুশফিক? বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিদর্শনে নিউইয়র্কের পাঁচ সিনেটর আজ ঢাকায় আসছেন রাষ্ট্রপতি জাপান ও সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন আজ হাইকোর্টে ৯ বিচারপতি নিয়োগ দুই সেনা নিহতের পর পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ভারত ‘বাংলাদেশের নির্মিত ফোন সারা বিশ্বে ব্যবহার হবে’ বিকেলে যুবলীগের সঙ্গে বসছেন শেখ হাসিনা
১০৮

স্বাদের পেয়ারা হাট 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৯  

প্রতিদিন ভোর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া থেকে চন্দনাইশের অন্তত সাত জায়গায় বসে পেয়ারার হাট। কমলা আকৃতির সবুজ-হলুদ রঙের এ পেয়ারা কোন জায়গার জিজ্ঞেস করলে যে কেউ উত্তর দেবে, চন্দনাইশ কাঞ্চননগরের।

সারা দেশের মধ্যে নামকরা পটিয়া-চন্দনাইশের পেয়ারা। মিষ্টি বেশি, বিচির সংখ্যা তুলনামূলক কম। পাকলে ভেতরে কোনোটি সাদা, কোনোটি হলুদ, কোনোটি লালচে।

এখানকার পেয়ারার স্বাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে পটিয়া চা–বাগান স্বপ্ননগর বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক সুজা আল মামুন আঞ্চলিক গানের শিল্পী সঞ্জিত আচার্য ও শেফালী ঘোষের ‘গয়াম ভাল পটিয়ার, তরমুজ ভাল পতেঙ্গার’ গানটি স্মরণ করিয়ে দেন।

আর সাধারণ পেয়ারাচাষি চন্দনাইশের কাঞ্চননগরের আইয়ুব আলী বললেন, এ পেয়ারার এতই স্বাদ যে, দেশের কোনো পেয়ারার সঙ্গে এর মিল নেই।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পেয়ারার হাট বসে চন্দনাইশের রৌশন হাটে। অতি সম্প্রতি এই হাটে গেলে চোখে পড়ে, মহাসড়কের দুপাশজুড়ে লাল কাপড় বাঁধা পেয়ারার সারি সারি ভার নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রতিদিন পাঁচ শ ভাঁড় পেয়ারা বিক্রি হয় এ বাজারে। এখানকার পেয়ারা চট্টগ্রাম নগর, কক্সবাজার, পেকুয়া, চকরিয়া, টেকনাফ, হাটহাজারী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান।

পটিয়ার পাহাড়ি এলাকার হাইদগাঁও, কচুয়াই, খরনা এবং চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর থেকে দোহাজারী এলাকার কাঞ্চননগর, হাসিমপুর ও জামিজুরী ইউনিয়নের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষের পেয়ারাবাগান রয়েছে। পেয়ারাই তাঁদের আয়ের প্রধান উৎস।

চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার প্রবীণ বাগান মালিক আইয়ুব আলী খান (৬৫)। ১৯৬০ সালের দিকে দক্ষিণ শ্রীমাই এলাকায় মাত্র ১০ একর জায়গায় পেয়ারাবাগান শুরু করেন তাঁর বাবা মরহুম খলিলুর রহমান। ১৯৮০ সাল থেকে তিনিসহ তাঁর ভাইয়েরা মিলে বাগান বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে পাঁচ ভাইয়ের ৪০ একর পেয়ারাবাগান রয়েছে।

জনশ্রুতি আছে, ১৮৫০ সালের দিকে পটিয়ার কচুয়াই চা–বাগানের মালিক হেগিন্স লন্ডন থেকে প্রথমে আনারস, পরে পেয়ারা ও লিচু বীজ এনে তাঁর বাংলোর আশপাশে রোপণ করেন। পরে ওই বীজ থেকে চারদিকে বাগান ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে পেয়ারাকে কেউ ‘গয়াম’, কেউ ‘গোয়াছি’ বলে।

চট্টলার বার্তা
চট্টলার বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর